জাতীয় দৈ‌নিক বাংলা‌দেশ প্রতি‌দিনে প্রচ‌া‌রিত সংবাদ।
মধুতে হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য সম্ভাবনা
রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর
বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ টা
গুণে-মানে স্বাদে অতুলনীয় দেশের সেরা দিনাজপুরের লিচু। আর জেলার সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে রয়েছে লিচু বাগান। এ ছাড়াও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আরও লিচু গাছ। দিন দিন লিচুর বাগান বাড়ছে।
শুধু বিস্তীর্ণ লিচুর বাগানকে ঘিরেই নতুন অর্থনীতির স্বপ্ন দেখছেন তরুণ মৌ-খামারিরা। দিনাজপুরকে মধুর জেলা রূপান্তরের সম্ভাবনাময়ের হাতছানি দিচ্ছে হাজার কোটি টাকার অর্থনীতি। লিচু মৌসুমেই হাজার কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়াও সরিষা, ধনিয়া, মিষ্টি কুমড়া, শজিনা, ধইঞ্চা থেকেও উৎপাদিত হয় মধু।

তাই অনেকে শিক্ষাজীবন শেষে আসছেন এদিকে। প্রায় প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন উদ্যোক্তা, নিচ্ছেন প্রশিক্ষণ এবং গড়ছেন মৌ-খামার। সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী মধু আহরণ করতে পারলেই অর্থনীতিতে এই মৌ-খামারিরা ব্যাপক অবদান রাখবেন এবং মধু রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

মৌ-খামারিদের একজন উদ্ভিদবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে এই সম্ভাবনা নিয়ে বিগত তিন বছর ধরে কাজ করছেন।
প্রতিষ্ঠা করেছেন মৌ-খামার, উৎপাদন করছেন মধু, তৈরি করছেন নতুন উদ্যোক্তা, নিয়মিত আয়োজনও করছেন প্রশিক্ষণের। আর বেকারত্ব দূরীকরণে গড়েছেন যুব সংগঠন আলোর পথে জাগো যুব, দিনাজপুর নামের সংগঠন। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড প্রোসেসিং অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগ মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে এ বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিসিক, যুব উন্নয়ন অধিদফতর থেকে মৌ-চাষে প্রশিক্ষণ নিয়েছে গত বছরেই ৪ শতাধিক। দিন দিন বাড়ছে মৌ-খামারি।
এ ব্যাপারে মৌ-খামারি মোসাদ্দেক হোসেন জানান, দিনাজপুরের কৃষি অর্থনীতি সমৃদ্ধ। সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে যে পরিমাণ লিচু বাগান রয়েছে তাতে বৈজ্ঞানিক উপায়ে বিশ্লেষণ করে জানা যাচ্ছে, লিচু ফুল থেকে এ জেলায় ১ হাজার কোটি টাকার মধু আহরণ করা সম্ভব। কিন্তু এত পরিমাণ মৌখামার গড়ে ওঠেনি। বেকারত্ব নিরসনে মৌ শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ১০০টি মৌবাক্সের খামার থেকে লিচু মৌসুমে অন্তত দুই টন মধু আহরণ করা যায়। দিনাজপুরে যে পরিমাণ লিচুবাগান রয়েছে তা পরিকল্পিতভাবে মৌখামারে বিস্তৃত করে শুধু মার্চ মাসের লিচু ফুলেই হাজার কোটি টাকার বিপুল পরিমাণ মধু উৎপাদিত করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে যুব উন্নয়ন অধিদফতর, দিনাজপুর, দিনাজপুর সদর উপজেলা প্রশাসন ও জাইকার সহযোগিতায় ৩০০ জনকে মৌ পালনের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এদের মধ্য থেকে অন্তত ২০ জন মৌখামারি তৈরি হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে খামার প্রতিষ্ঠা ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়েছে। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড প্রোসেসিং অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রুবেল মজুমদার জানিয়েছেন, দিনাজপুরের লিচু ফুলের মধুর মান অত্যন্ত ভালো। তাই তারা আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
MBF Honey- খাঁ‌টি মধু উৎপাদন ও তা বিপণ‌ণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আপনার প্রয়োজ‌নেঃ 01738832141

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *